বিমসটেক: বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের বহুমুখী সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম

Seba Hot News : সেবা হট নিউজ
0

সেবা ডেস্ক: বিমসটেক (BIMSTEC) হল বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের ৭টি দেশের একটি আঞ্চলিক জোট, যা বহুমুখী কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমন্বিত উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। 

বিমসটেক: বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের বহুমুখী সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম
বিমসটেক: বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের বহুমুখী সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম


১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠন বাণিজ্য, পরিবহন, জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলাসহ ১৪টি অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে কাজ করছে। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটানের অংশগ্রহণে গঠিত বিমসটেক দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে কৌশলগত সংযোগ স্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।


বিমসটেক (BIMSTEC) বা বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল, টেকনিকাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন হল দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ৭টি দেশের একটি আঞ্চলিক জোট। 


১৯৯৭ সালের ৬ জুন প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য হল অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও সামাজিক ক্ষেত্রে সমন্বিত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা। 


সদস্য দেশগুলির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটান। সংগঠনটির সদর দপ্তর বাংলাদেশের ঢাকায় অবস্থিত, যা ২০১৪ সালে উদ্বোধন করা হয়।

আরও পড়ুন:

বিমসটেকের যাত্রা শুরু হয় ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে। 


প্রাথমিক নাম ছিল BIST-EC, যা পরবর্তীতে মিয়ানমার (১৯৯৭), নেপাল ও ভুটানের (২০০৩) যোগদানের পর BIMST-EC এবং ২০০৪ সালে BIMSTEC-এ রূপান্তরিত হয়। 


২০০৪ সালের প্রথম শীর্ষ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম পরিবর্তন করা হয়।


বিমসটেকের সভাপতিত্ব সদস্য দেশগুলির ইংরেজি নামের আদ্যক্ষরের ক্রম অনুযায়ী পর্যায়ক্রমিকভাবে পরিবর্তিত হয়। 


বর্তমানে থাইল্যান্ড (২০২২-২০২৪) সভাপতিত্ব করছে এবং ২০২৫ থেকে বাংলাদেশ পুনরায় দায়িত্ব নেবে। 


সংগঠনটি ১৪টি অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে, যার মধ্যে বাণিজ্য, পরিবহন, জ্বালানি, পর্যটন, জলবায়ু পরিবর্তন ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা উল্লেখযোগ্য। 


প্রতিটি ক্ষেত্রে একটি “লিড দেশ” দায়িত্বপ্রাপ্ত; যেমন ভারত পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে নেতৃত্ব দেয়।


২০০৫ সাল থেকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) বিমসটেকের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করছে, বিশেষত পরিবহন অবকাঠামো গবেষণায় (BTILS)। 

২০০৪ সালে কারিগরি সহায়তা সুবিধা (TSF) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সদস্যদেশগুলির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি পায়। 


২০০৮ সালে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে ঢাকায় স্থায়ী সচিবালয় গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে।


যদিও বিমসটেকের সদস্য দেশগুলির মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য সহযোগিতাকে কখনও কখনও জটিল করে তোলে, তবুও সংগঠনটি সম্প্রতি আসিয়ান (ASEAN) এর সাথে যৌথ শীর্ষ সম্মেলনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে। 


জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ মোকাবিলার মতো বৈশ্বিক ইস্যুতে সম্মিলিত পদক্ষেপ এই জোটের প্রাসঙ্গিকতা বাড়াচ্ছে।


বিমসটেক বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের ১.৬ বিলিয়ন মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। 

সদস্য দেশগুলির মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্যিক সংযোগ ও সাংস্কৃতিক বন্ধন শক্তিশালী করার মাধ্যমে এটি দক্ষিণ-এশীয় ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে। 

ভবিষ্যতে কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে বিমসটেক একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক বলয়ে পরিণত হতে পারে।




সূত্র: /সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশ্যে আপোষহীন

banner

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top