সেবা ডেস্ক: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রমজানের ইফতারি সংস্কৃতি—জানুন মিসর, তুরস্ক, মরক্কো, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো।
![]() |
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রমজানে ইফতারের ঐতিহ্যবাহী খাবার কী |
রমজান মাস আসছে, আর সারা বিশ্বের মুসলিমরা ইফতারের সময় ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবার উপভোগ করে থাকে।
বাংলাদেশের ইফতারি যেমন খেজুর, ছোলা, আলুর চপ, বেগুনি, মুড়িমাখা, এবং লেবুর শরবত দিয়ে শুরু হয়, তেমনি বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশে ইফতারি ভিন্ন রকম।
আরও পড়ুন:
আসুন, জেনে নিই বিশ্বের পাঁচটি দেশের ঐতিহ্যবাহী ইফতারি সম্পর্কে।
![]() |
তুরস্কের দোলমা |
তুরস্কের দোলমা
তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী দোলমা মূলত আঙুরের পাতা, বেল মরিচ বা ক্যাপসিকামের মধ্যে চাল, মসলা এবং কিমা মাংস দিয়ে তৈরি করা হয়। সাধারণত ঠান্ডা অবস্থায় অ্যাপেটাইজার হিসেবে এটি খাওয়া হয়, আবার দইয়ের সঙ্গে এটি প্রধান খাবার হিসেবেও উপভোগ করা হয়। এর হালকা ও সতেজ স্বাদ রমজান মাসে ইফতার হিসেবে জনপ্রিয়।মরক্কোর হারিরা স্যুপ একধরনের সুস্বাদু স্যুপ, যা মসুর ডাল, ছোলা, টমেটো, পেঁয়াজ, আদা, হলুদ, দারুচিনি এবং নানা সুগন্ধি মসলা দিয়ে তৈরি হয়। এটি বাংলাদেশের হালিমের মতো হলেও একে সাধারণত খেজুর এবং মিষ্টি পেস্ট্রির সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর এটি শরীরে শক্তি ও স্বস্তি জোগায়।
![]() |
মিসরের কাতায়েফ |
মিসরের কাতায়েফ
মিসরের অন্যতম জনপ্রিয় ইফতারি হলো কাতায়েফ, যা দেখতে প্যানকেকের মতো হলেও তার বিশেষ মিশ্রণ এবং পুরের কারণে এটি একেবারে আলাদা। এই মিষ্টান্নের মধ্যে মিষ্টি চিজ বা বাদাম ভরা হয়, এরপর এটি ভেজে সোনালি ও মচমচে করা হয়। কাতায়েফের দুটি ধরন আছে—ভাজা ও বেক করা। ভাজা কাতায়েফ বাইরে মচমচে এবং ভিতরে নরম থাকে, আর বেক করা কাতায়েফ কেকের মতো ও স্পঞ্জি। বর্তমানে এটি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয়।
পাকিস্তানের হালিম একটি জনপ্রিয় ইফতারি, যা মসুর ডাল, গম এবং মাংস (গরু, খাসি বা মুরগি) দিয়ে তৈরি করা হয়। এই খাবারটি দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে ধীরে রান্না করা হয় এবং পরিবেশন করা হয় নান বা রুটি দিয়ে। ওপরে বেরেস্তা, লেবু এবং ধনেপাতা ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা খাবারটিকে আরও সুস্বাদু করে তোলে।
![]() |
ইন্দোনেশিয়ার মি গ্লোসর |
ইন্দোনেশিয়ার মি গ্লোসর
মি গ্লোসর হল ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভার একটি বিখ্যাত খাবার, যা ইফতারে বেশ জনপ্রিয়। এটি মূলত একধরনের নুডলস, যা কাসাভা ময়দা ও হলুদ দিয়ে তৈরি হয়। এর মসৃণ ও নরম টেক্সচারের কারণে এর নামকরণ করা হয়েছে "গ্লোসর", যার মানে "পিছলে পড়া"।
খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।