সেবা ডেস্ক: রমজান মাসে নবীজি (সা.)-এর প্রস্তুতি ও ইবাদত জীবনের এক অনুপ্রেরণা। রোজা, দানশীলতা এবং আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব।
![]() |
নবীজি (সা.)-এর রমজানপূর্ব প্রস্তুতি: নেক আমলের মাসে পূর্ণ প্রস্তুতি |
নবীজি (সা.)-এর রমজানপূর্ব প্রস্তুতি: নেক আমলের মাসে পূর্ণ প্রস্তুতি
রমজান মাস মহান আল্লাহর এক বিশেষ অনুগ্রহ, যা তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি দান করেছেন। এই মাসটি এমন এক সময় যখন নেক আমলের প্রতিদান বহুগুণে বৃদ্ধি পায় এবং এটি পৃথিবীজুড়ে মুসলমানদের জন্য একটি আধ্যাত্মিক উদযাপন। বিশেষভাবে, এই মাসের মধ্যে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআন নাজিল করেছেন, যা মানুষের জন্য হিদায়াত এবং সঠিক পথের দিশা। আল্লাহ তাআলা বলেন: "রমজান মাস, যে মাসে কোরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হিদায়াত এবং সত্যপথের সুস্পষ্ট দিশা আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী।" (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫)
এই মাসের সেরা রাত, লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম, এবং নবীজি (সা.) এই মাসকে পরম আনন্দ ও উত্সাহের সঙ্গে বরণ করতেন। তিনি ইবাদত-বন্দেগি, দান-সদকা ও সত্কর্মে আত্মনিয়োগ করতেন এবং সাহাবিদেরও রমজান মাসের গুরুত্ব বোঝাতেন। তিনি বলেন, “তোমাদের কাছে রমজান এসেছে, যা একটি বরকতময় মাস। আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর এই মাসের রোজা ফরজ করেছেন। এ মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ হয়ে যায় এবং শয়তানদের গলায় লোহার বেড়ি পরানো হয়।” (সুনানে নাসাঈ, হাদিস : ২১০৬)
নবীজি (সা.)-এর রমজানের প্রস্তুতি ও জীবনধারা
মহিমান্বিত রমজানের আগমনে নবীজি (সা.) খুবই আনন্দিত হতেন এবং আল্লাহর দরবারে দোয়া করতেন যেন তিনি এ মহিমান্বিত মাসের বরকত লাভের সুযোগ পান। তিনি শাবান মাসে বেশি পরিমাণে রোজা রাখতেন, যাতে রমজানের রোজা পালন তাঁর জন্য সহজ হয়ে যায় এবং আত্মিকভাবে তিনি এ মাসের জন্য প্রস্তুত হতে পারেন। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বলেন, “আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে রমজান ছাড়া কোনো পুরা মাসের রোজা পালন করতে দেখিনি এবং শাবান মাসের চেয়ে কোন মাসে বেশি (নফল) রোজা পালন করতে দেখিনি।” (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯৬৯)
রমজান মাসে নবীজি (সা.) অতুলনীয়ভাবে উদারতা ও দানশীলতার পরিচয় দিতেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন: আল্লাহর রাসুল (সা.) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল। রমজানে তিনি আরো বেশি দানশীল হতেন, যখন জিবরিল (আ.) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত্ করতেন। রমজানের প্রতি রাতে জিবরিল (আ.) তাঁকে কোরআন তিলাওয়াত করতেন এবং তাঁরা একে অপরকে কোরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন।
রমজানের শেষ ১০ দিনে নবীজি (সা.)-এর ইতিকাফ
রমজানের শেষ ১০ দিনে নবীজি (সা.) ইতিকাফে বসতেন এবং নিজেকে আরো বেশি ইবাদতে নিয়োজিত করতেন। তিনি এই দিনগুলোতে বিশেষভাবে লাইলাতুল কদর খোঁজার চেষ্টা করতেন। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বলেন, “আল্লাহর রাসুল (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন এবং বলতেন: ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।’” (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০২০)
আত্মশুদ্ধির সুবর্ণ সুযোগ
তাহলে দেখা যায়, নবীজি (সা.) রমজান মাসকে শুধুমাত্র রোজার মাস হিসেবে দেখেননি, বরং এটি ছিল তাঁর জন্য ইবাদত, উদারতা, কোরআন তিলাওয়াত ও আত্মশুদ্ধির সুবর্ণ সুযোগ। নবীজি (সা.) নিজে যেমন এই মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাতেন, তেমনি উম্মতকেও অনুপ্রাণিত করতেন যাতে তারা রমজানের পূর্ণ ফজিলত অর্জন করতে পারে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের রমজানের প্রস্তুতি নেওয়ার ও রমজানে পূর্ণ উদ্যমে ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
রমজানে প্রিয় নবী (সা.) যেসব ইবাদত বেশি করতে বলেছেন
নবী করিম (সা.) পবিত্র রমজানে নিজেকে পরিপূর্ণরূপে আল্লাহর দরবারে সমর্পণ করে দিতেন। আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে মন উজাড় করে দিতেন। খাঁটি গোলাম হিসেবে ইবাদতের মাঝে নিজেকে মগ্ন রাখতেন।
নবী করিম (সা.) রমজান মাসে যেসব ইবাদত বেশি করতেন, তার পূর্ণ বিবরণ কোরআন-হাদিসে পরিষ্কারভাবে বর্ণিত আছে। তিনি নিজে এসব আমল করেছেন, উম্মতকে করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। রমজানে করণীয় প্রশ্নে উম্মতের সামনে অনুপম উপমা রেখে গেছেন। কয়েকটি ইবাদত নিম্নরূপ:
*সেহরি-ইফতারি করা
রাসুল (সা.) সেহরি-ইফতারিকে খুব গুরুত্ব দিতেন। সেহরি-ইফতারির ফজিলত সম্পর্কে বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা সেহরি গ্রহণকারীদের উপর মাগফিরাত ও রহমত বর্ষণ করেন।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ১৬৫৪)
ইফতারির ফজিলত সম্পর্কে বলেছেন, ‘তোমরা দ্রুত ইফতারি করো, যতদিন দ্রুত ইফতারি করবে, ততদিন পর্যন্ত তোমাদের ভেতর কল্যাণ থাকবে।’ (বোখারি, হাদিস: ১৯৫৭)
*কোরআন পাঠ করা-কোরআন শেখা
রাসুল (সা.) রমজান মাসে প্রচুর কোরআন পাঠ করতেন। সুযোগ পেলেই কোরআন পাঠে মশগুল হতেন। হজরত জিবরাইল (আ.) থেকে কোরআনের পাঠ গ্রহণ করতেন। তার সাথে কোরআন পাঠের প্রতিযোগিতা করতেন। হাদিসে আছে, ‘রমজানের প্রতি রাতে জিবরাইল (আ.) রাসুল (সা.)-এর সাথে সাক্ষাত করতেন। কোরআন শুনিয়ে ও শুনে তারপর বিদায় গ্রহণ করতেন।’ (বোখারি, হাদিস: ১৯০২)
অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘পাঠকারীর পক্ষে কোরআন আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে। হে প্রভু! আমি তাকে রাতে ঘুমাতে দেইনি (রাতভর কোরআন পাঠ করেছে)। তার জন্য আমার সুপারিশ কবুল করুন। আল্লাহ কোরআনের অনুরোধ গ্রহণ করবেন।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ৬৫৮৯)
*তারাবি-তাহাজ্জুদ আদায়
তারাবি নামাজ ইসলামি শরিয়তে সুন্নতে মুয়াক্কাদা। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তারাবি নামাজ আদায় করেছেন। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘রমজান মাসে যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় তারাবি নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তাআলা তার পেছনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন!’ (বোখারি, হাদিস: ২০০৯)
নবী করিম (সা.) অন্যান্য সময়েও সাধারণত তাহাজ্জুদ নামাজ পরিত্যাগ করতেন না। কিন্তু রমজানে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তাহাজ্জুদ আদায় করতেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ নামাজ হলো তাহাজ্জুদ।’ (মুসলিম, হাদিস: ১১৬৩)
তাহাজ্জুদের বিশেষত্ব বোঝা যায় আয়েশা (রা)-এর একটি বক্তব্য থেকে। তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) রমজান মাসে দীর্ঘ রুকু-সেজদার মাধ্যমে, একনিষ্ঠ মনে তাহাজ্জুদ আদায় করতেন।’ (বোখারি, হাদিস: ১১৪৭)
আরও পড়ুন:
*দান-সদকা করা
রমজান মাসে রাসুল (সা.) বিপুল পরিমাণ দান করতেন। দারিদ্রপীড়িত ও অভাবগ্রস্তদের খোঁজ-খবর নিতেন। পরিপোষক হয়ে পাশে দাঁড়াতেন। বর্ণিত হয়েছে, ‘রাসুল (সা.) দানবীর ছিলেন। রমজান মাসেই তিনি বেশি বদান্যতার পরিচয় দিতেন। প্রবাহিত বাতাসের মতো অকুণ্ঠচিত্তে দান-সদকা ও কল্যাণমূলক কাজে অর্থ ব্যয় করতেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৩০৮)
*ইতিকাফ পালন ও শবে কদর অনুসন্ধান
রমজানে ইতিকাফের প্রতি রাসুল (সা.) প্রচণ্ড আগ্রহী ছিলেন। এতো গুরুত্ব দিতেন যে, এক বছর সফরের কারণে ইতিকাফ করতে না পেরে পরের বছর ২০ দিন ইতিকাফ করেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৪৪৫) তেমনিভাবে শবে কদর পাওয়ার জন্য রাসুল (সা.) ব্যাকুল থাকতেন। চেষ্টা করতেন কোনোভাবেই যেন শবে কদরের ফজিলত থেকে বঞ্চিত না হন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রমজানের শেষ দশকে নবী করিম (সা.) অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ইবাদত করতেন। শবে কদর পাওয়ার আশায় কোমর বেঁধে প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ১১৭৪)
শবে কদরের ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘রমজানে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ একটি রাত রয়েছে। এই রাত থেকে বঞ্চিত হলে সর্বপ্রকার কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হতে হয়। দুর্ভাগা ব্যতীত অন্য কেউ এই রাত থেকে বঞ্চিত হয় না।’ (নাসায়ি, হাদিস: ২১০৬)
*দোয়া ও তওবা করা
রমজান মাসকে রাসুল (সা.) কোঁচড় ভরে গ্রহণ করতেন। মিনতি করে মহান রবের সমীপে কান্নাকাটি-রোনাজারি করতেন। নবী করিম (সা.) রমজানে দোয়া কবুলের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া কবুল হয়।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ৮০৩০) অন্য হাদিসে আছে, ‘গুনাহ করার পর মানুষ তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৭৪৯)
*সর্বপ্রকার পাপাচার থেকে বিরত থাকা
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘রমজান মাসে রোজা রেখে যে ব্যক্তি অন্যায়-অপরাধ করলো, পাপাচার পরিত্যাগ করলো না, পানাহার পরিত্যাগ করে আসলে তার কোনও লাভ হলো না!’ (বোখারি, হাদিস: ১৯০৩)
অন্যায়-অনর্থক কাজে সময় নষ্ট না করে, ক্ষমার মাসের মহামূল্যবান সময়গুলো ইবাদতে ব্যয় করা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। আল্লাহ তাআলা আমাদের তৌফিক দান করুন।
এবারের রমজান মাসে কোন দেশে কত ঘণ্টা রোজা থাকতে হবে?
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের সময়ের পার্থক্য দেখা দেয়। তাই রোজা রাখার সময়ও কমবেশি হয়। বিষুবরেখার কাছের দেশগুলোতে অল্প সময় রোজা রাখতে হয়। অপরদিকে উত্তর এবং দক্ষিণ অক্ষাংশে ঋতুর উপর নির্ভর করে রমজানের সময় ১৭ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত অতিক্রম করতে পারে।
সৌদি আরব এবং কাতারের মতো দেশগুলো এবার পবিত্র মাস রমজান মাসে প্রতিদিন ১৪ ঘণ্টা রোজা পালন করবেন।
গ্রিনল্যান্ড এবং আলাস্কার মতো যেসব দেশে সূর্য কখনও অস্ত যায় না, এসব দেশের মুসলমানদের মক্কা ও সৌদি আরবের সময় অনুপাতে রোজা রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন ইসলামিক স্কলাররা। কারণ, এটি ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান।
এ বছর দীর্ঘ সময় রোজা রাখতে হবে যেসব দেশে:
- হেলসিঙ্কি, ফিনল্যান্ড (১৭ ঘণ্টা ৫ মিনিট)
- নুউক, গ্রিনল্যান্ড (১৭ ঘণ্টা)
- গ্লাসগো, স্কটল্যান্ড (১৬ ঘণ্টা ৫ মিনিট)
- অটোয়া, কানাডা (১৬ ঘণ্টা ৫ মিনিট)
- জুরিখ, সুইজারল্যান্ড (১৬ ঘণ্টা ৫ মিনিট)
- রোম, ইতালি (১৬ ঘণ্টা ৫ মিনিট)
- মাদ্রিদ, স্পেন (১৬ ঘণ্টা)
- লন্ডন, যুক্তরাজ্য (১৬ ঘণ্টা)
- প্যারিস, ফ্রান্স (১৫ ঘণ্টা ৫ মিনিট)
- রেকজাভিক, আইসল্যান্ড (১৫ ঘণ্টা)
এ বছর অল্প সময় রোজা রাখতে হবে যেসব দেশে :
- ক্রাইস্টচার্চ, নিউজিল্যান্ড (১১ ঘণ্টা ৫ মিনিট)
- পুয়ের্তো মন্ট, চিলি (১১ ঘণ্টা ৫ মিনিট)
- করাচি, পাকিস্তান (১২ ঘণ্টা)
- বুয়েনস আইরেস, আর্জেন্টিনা (১২ ঘণ্টা)
- কেপ টাউন, দক্ষিণ আফ্রিকা (১২ ঘণ্টা ৫মিনিট)
- নয়া দিল্লি, ভারত (১২ ঘণ্টা ৫মিনিট)
- জাকার্তা, ইন্দোনেশিয়া (১২ ঘণ্টা ৫মিনিট)
- দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত (১৩ ঘণ্টা)
- নাইরোবি, কেনিয়া (১৩ ঘণ্টা)
রোজা থাকাবস্থায় চুল-নখ কাটা জায়েজ কি?
রমজান মাসে রোজাদারদের অনেকেই জানতে চান, রোজা রেখে চুল ও নখ কাটা জায়েজ আছে কি না? অনেকে মনে করেন, রোজার মধ্যে চুল-নখ কাটলে রোজার কোনো ক্ষতি হতে পারে। তবে ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধারণা সঠিক নয়।
ইসলামে রোজা রাখা মানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পানাহার এবং যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সংযম পালন করাই রোজার মূল উদ্দেশ্য। তবে ইসলামে পরিচ্ছন্নতা এবং সৌন্দর্যচর্চা সর্বদা উৎসাহিত করা হয়েছে, যা চুল ও নখ কাটার মতো কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ইসলামি আইনবিদদের মতে, রোজা রেখে চুল-নখ কাটা সম্পূর্ণ বৈধ ও জায়েজ। এটি রোজার কোনো মূল বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় এবং রোজার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না।
কোনো সহিহ হাদিস বা কোরআনের আয়াতে রোজা রেখে চুল ও নখ কাটার নিষেধাজ্ঞা নেই। বরং হাদিস ও ইসলামি শিক্ষায় পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আবু মালেক আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অর্ধেক।’ (মুসলিম ২২৩) এখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অন্তর্ভুক্ত কাজগুলোর মধ্যে চুল-নখ কাটা, গোসল করা ইত্যাদিও পড়ে।
ইসলামিক স্কলারদের মতামত, বিভিন্ন মাদ্রাসা ও ফতোয়া বোর্ডের ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, চুল ও নখ কাটা পরিচ্ছন্নতার অংশ, যা রোজা ভাঙার কোনো কারণ নয়।
অন্যদিকে রোজা রেখে চুল-নখ কাটা প্রসঙ্গে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, চুল ও নখের সঙ্গে শিরা বা উপশিরার কোনো সম্পর্ক নেই। তাই চুল ও নখ কাটলে কোনো ব্যথা পাওয়া যায় না বা রক্ত বের হয় না।
তাই ওলামায়ে কেরামরা জানান, রোজা অবস্থায় হাত-পায়ের নখ কাটলে, চুল কাটালে ও ক্ষৌরকর্ম করলে বা করালে রোজার ক্ষতি হবে না। এর সঙ্গে রোজা ভঙ্গের কোনো সম্পর্ক নেই। রোজা নষ্ট হয় মূলত পানাহার ও রতিক্রিয়া দ্বারা।
ইসলামের প্রখ্যাত ফকিহগণ বলেন, রোজা অবস্থায় কেউ যদি চুল কাটে বা নখ কাটে, তাহলে তার রোজার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। এটি শুধু সাধারণ পরিচ্ছন্নতার একটি অংশ।
অর্থাৎ, রোজা রেখে চুল-নখ কাটার বিষয়ে ইসলামে কোনো বাধা নেই। বরং ইসলাম পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার প্রতি গুরুত্ব দেয়। তাই রোজাদার ব্যক্তি নিশ্চিন্তে চুল ও নখ কাটতে পারেন, এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না।
খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।