সেবা ডেস্ক: প্রতি বছর টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ব ইজতেমা, যা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে স্বীকৃত।
বিশ্ব ইজতেমা ২০২৫: তারিখ, ইতিহাস ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য |
মূলত এটি ইসলামের দাওয়াতি আন্দোলন তাবলীগ জামাতের বার্ষিক বিশ্বসম্মেলন, যেখানে দেশ-বিদেশ থেকে লাখো মুসল্লি অংশ নেন। ইজতেমার মূল উদ্দেশ্য হল ইসলামের মৌলিক শিক্ষা প্রচার ও মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলা।
কবে থেকে শুরু?
বিশ্ব ইজতেমার সূচনা হয় ১৯৪৬ সালে ঢাকার কাকরাইল মসজিদে ছোট পরিসরে। পরে এটি বৃহৎ আকার ধারণ করে এবং ১৯৬৭ সাল থেকে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০২৫ সালেও যথারীতি দুটি পর্বে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যাতে প্রথম পর্বে দেশের নির্দিষ্ট কিছু জেলার মুসল্লিরা এবং দ্বিতীয় পর্বে বাকি জেলার মুসল্লিরা অংশ নেন।
ইজতেমার মূল কার্যক্রম
ইজতেমার মূল আকর্ষণ হলো: ইসলামী বয়ান: বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত আলেমরা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, আমল ও আকিদা নিয়ে আলোচনা করেন।
দোয়া মাহফিল: বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয় মুসলিম উম্মাহর কল্যাণের জন্য।
তাসবিহ-তাহলিল: মুসল্লিরা ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন থাকেন।
আখেরি মোনাজাত: শেষ দিনে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় আখেরি মোনাজাত, যা ইজতেমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিশ্ব ইজতেমার গুরুত্ব
বিশ্ব ইজতেমা শুধু বাংলাদেশেই নয়, গোটা মুসলিম বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এটি কোনো নির্দিষ্ট মাজহাবের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং সাধারণ মুসলিমদের ইসলামের দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয় এখানে। বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর কয়েক মিলিয়ন মুসল্লির সমাগম ঘটে, যার ফলে নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বাংলাদেশ সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে ইজতেমাকে সফল করতে কাজ করে।
বিশ্ব ইজতেমার সময়সূচি (২০২৫)
প্রথম পর্ব: ৩১ জানুয়ারি - ২ ফেব্রুয়ারি (আখেরি মোনাজাত: ২ ফেব্রুয়ারি)
দ্বিতীয় পর্ব: ৩ ফেব্রুয়ারি - ৫ ফেব্রুয়ারি (আখেরি মোনাজাত: ৫ ফেব্রুয়ারি)
সাদ অনুসারীদের ইজতেমা: ১৪ - ১৬ ফেব্রুয়ারি
বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
বিশ্ব ইজতেমাকে ঘিরে র্যাব, পুলিশ, বিজিবি এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন মনিটরিং, ওয়াচ টাওয়ার এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশ্ব ইজতেমার প্রভাব
আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ: বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশের মুসল্লিরা ইজতেমায় অংশগ্রহণ করেন।
অর্থনৈতিক প্রভাব: ইজতেমাকে কেন্দ্র করে পর্যটন, খাদ্য, পরিবহন ও ব্যবসার প্রসার ঘটে।
ধর্মীয় ঐক্য: মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়।
খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।