জামালপুর সংবাদদাতা : জামালপুরে মেলান্দহে চলতি বোর মৌসুমে বিআর-২৮ জাতের ধানে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। এ রোগে উপজেলার ধানচাষের বৃহৎ এলাকা বকচরি ও ভরাদ্দহ বিলের অন্তত: দেড় শতাধিক হেক্টর জমির ধানে শুধু চিটা দেখা দিয়েছে।
আক্রান্ত ক্ষেত থেকে কৃষকের ঘরে ১০ কেজি ধানও ঘরে তোলার সম্ভাবনা দেখছেন না। সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এ ছাড়াও নতুন নতুন এলাকায় একই অবস্থার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্থ প্রায় শতাধিক প্রান্তিক চাষীদের মাঝে বিরাজ করছে শুধুই হতাশার ছাপ। ক্ষতিগ্রস্থ্য কৃষকরা কৃষি অফিসের পরামর্শে প্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। অভিযোগ ওঠেছে, প্রভাবশালী মহলের অসাধু কিছু ব্যবসায়ীদের ভেজাল কীটনাশক কোন কাজ করছে না। কয়েক বছর যাবৎ ধানের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এটার তদন্ত ও প্রতিকার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রতারিত কৃষকরা।
আগের বছরও বিআর-২৮, ২৯ এবং ৫৮ জাতের ধানে ব্লাস্ট রোগটি কোন কোন এলাকায় মহামারি আকার ধারণ করেছিল। ব্লাস্ট আক্রান্ত এসব জমি থেকে কৃষক ৫ কেজি ধানও ঘরে নিতে পারেননি। ক্রমাগত এমন অবস্থা চলতে থাকলে খাদ্য ঘাটতির কবলে পড়ার আশংকা করা হচ্ছে। আক্রান্ত ধানের খড়ে এক ধরণের গন্ধও পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিগত বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে ব্লাস্ট আক্রান্ত ধানের খড় গবাদি পশুকে খাওয়ানোর পর পাতলা পায়খানা থেকে রক্ষার জন্য আগে থেকেই প্রাণী সম্পদ বিভাগের চিকিৎসকরা গবাদি পশুকে এসব খড় শুকিয়ে ভক্ষণের পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষকদের।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ব্লাস্ট আক্রান্ত থেকে রক্ষা পেতে সার-কীটনাশক প্রয়োগের মাত্রা, কৃষককে সচেতন এবং এর প্রতিকার পেতে লিফলেট মাইকিং-এ প্রচার করা হয়েছিল। ব্লাস্ট আক্রান্ত হলে ধানের শীষের ঠিক নিচে পচন ধরে। এতে ধানের মোহর হবার খাদ্যনালী বন্ধ হয়ে চিটায় রূপ নেয়। চিকিৎসা দেবারও সময় থাকে না। পরিবেশ বিপর্যয় কিংবা প্রতিকুল আবহাওয়ায় এ রোগের ঝুঁকিও বেশি।
আদ্রা গ্রামের কৃষক শেখ ফরিদ (৩৫) জানান-আমার তিন বিঘা জমির ধানের সমৃদ্ধ গোছা ও শীষ খুবই সুন্দ। কিন্তু ধানে মোহর নাই। কৃষি অফিসের পরামর্শে কয়েকবার সার-কীটনাশক প্রয়োগ করেও প্রতিকার পেলাম না। বাসুদেবপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম (৫০) জানান-চমৎকার ধানেরশীষ। কিন্তু শুধুই চিটা। কৃষি অফিসের পরামর্শে ক্ষেতে যখন যা প্রয়োগ করতে বলেছে, তাই করেছি। তাওতো কোন উপকার পেলাম না। কৃষক সাইফুল ইসলাম (৪৫) ও আবুল কাশেম (৪০) জানান-বিআর-২৮ জাতের ধান চিকন, ফলন ভালো এবং ঘরেও তোলা যায় আগে। এজন্যই কৃষকরা আকৃষ্ট এই ধানের প্রতি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল জানান-প্রতিদিনই বøাস্ট আক্রান্তের খবর আসছে। এই রোগাক্রান্ত হলে প্রথমেই বোঝার সুযোগ থাকে না। প্রতিকারের সময়ও পাওয়া যায় না। এজন্য মাঠপর্যায়ে উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তারাসহ আমরাও আগে থেকেই কৃষকদের সচেতন করেছি। ধানের কাইচ থোরের সময় কীটনাশক ছিটানোর পরামর্শ দিয়ে থাকি। অনেকেই মনে করেন-ধান ক্ষেত এমনিতেই ভালো দেখাচ্ছে। অযথা কীটনাশক দিব কেন? যারা আমাদের পরামর্শ ফলো করেছেন, তারা শতভাগ সুফল পাচ্ছেন। যারা আমাদের পরামর্শ অনুসরননি। তারা বরাবরই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সচিব এবং কৃষিবিদ ড. মোয়াজ্জেম হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন-এই পুরোনো জাতগুলো এখন অনেকটাই সংবেদনশীল হয়েছে। পুরোনো জাত পরিহার করে বর্তমান সময়ের জন্য উপযুক্ত-নতুন ও উচ্চফলনশীল জাতের ধান চাষের জন্য কৃষকদের উদ্বোদ্ধ করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে কয়েক বছর আগেই।
খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।